আমি অত্যন্ত দুখিতএতদিন পরে লেখার জন্য।আসলেআর লিখতাম না শুধু কিছু পাঠকও পাঠিকার কারণে লিখছি।আরএখানে দিচ্ছিএখানকার কিছু পাঠকএবং পাঠিকার জন্যআমার বিলম্বের জন্যআমি অত্যন্ত দুখিত।
পর্ব-৫
কেনাকাটা করে আবার সেই রেস্টুরেন্টে গেলাম। নাহ আজকেই চূড়ান্ত কথা বলে ফেলব। এভাবে ঝুলিয়ে রাখার কোন মানে হয় না। কিন্তু যদি ওর কারো সাথে এফেয়ার থাকে, তাহলে? থাকলে থাকুক। ও নিশ্চয়ই আমাকে জানাবে। এই ভাবতে ভাবতে দু’জন এসে বসলাম আবার সেই জিনজিয়ানে।
-কি ব্যাপার ইমন ভাই, চুপ করে বসে আছেন যে? মন খারাপ?
-কেন মন খারাপ হবে কেন?
-না আমাকে এত কিছু কিনে দিলেন, কিছু পয়সা খরচ হল। এই জন্য মর খারাপ হতে পারে।
-আরে নাহ কি যে বল। (মনে মনে বলি হ তোরে কইছে মন খারাপ হইব কেন। তোমার জন্য তো আমি দুনিয়াটাই কিনে দিতে পারি)
-আমার অবশ্য দোষ দিতে পারবেন না। আমি কিন্তু টাকা ঠিকেই দিতে চেয়েছিলাম। আপনি তো নিলেন না। বলেলেন সাজ্জাদের শালী মানে আমাদেরও শালী।
(আরে শালী কয় কি? এই কথা কখন বললাম। আবার কেমন মিটিমিটি হাসছে। নাহ খুব নার্ভাস লাগছে। আজকে কি বলতে পারব। এই পর্যন্ত বসে বসে ২ গ্লাস কোল্ড ড্রিংকস শেষ করলাম।)
-কি ব্যাপার ইমন ভাই কিছু কি হয়েছে? বার বার কোল্ড ড্রিংকস খাচ্ছেন।
-নাহ নাহ কিছু হয় নাই। কি আর হবে। আচ্ছা ইয়ে মানে ইয়ে হৃদি না মানে ইয়ে হৃদিকা একটা কথা বলার ছিল?
-কি কথা ইমন ভাই? আর এরকম তোতলাচ্ছেন কেন? আপনার এই রোগ তো দেখিনি।
-না মানে ইয়ে একটা কথা।
-কি কথা বলেন না।
-বলছি। আসলে আসলে (আবার এক গ্লাস পানি খেলাম। কি যে নার্ভাস লাগছে। কি করি)
-কি ব্যাপার ইমন ভাই, খারাপ লাগছে নাকি?
-না মানে আমি একটু ওয়াশ রুমে যাব। তুমি বস আমি আসছি (বলেই দৌড় লাগালাম)
এসে দেখি টেবিলে ও নাই। কোথায় গেল মেয়েটি? আমার উপর কি রাগ করেছে নাকি। টেবিলে বসে আছি আর ভাবছি। এই সময় ওয়েটার খাবার নিয়ে আসল। আরে কি বিপদ এখন এই খাবার কে খাবে?
-স্যার।
-হুম বল (ওয়েটার এসে হাজির)
-স্যার ম্যাডাম যাবার সময় আমার কাছে এই খামটা দিয়ে গেছে এবং বলেছে আপনাকে দিতে।
-আচ্ছা দাও
খামটা খুলে দেখি সুন্দর একটা কাগজে সুন্দর হাতের লেখায় একটা ছুট্ট চিঠি। চিঠিতে লেখা
ইমন,
স্যরি স্যার আপনাকে নাম ধরে ডাকলাম। মানুষ এত নার্ভাস হয় জীবনে এই প্রথম দেখলাম। মুখ ফুটে একটি কথাও যদি না বলতে পারবে, তাহলে কেন এখানে নিয়ে এসেছ? তুমি কি বুঝতে পেরেছ যে আমি তোমার কিছুই বুঝিনি। আমি অনেক আগে থেকেই টের পেয়েছি তোমার ব্যাপারটা। যাকে ভালবাস তাকে কেন মুখ ফোটে বলতে পার না? এত নার্ভাস হলে কি চলে। আসলে যে দিন তোমাকে প্রথম দেখেছি সেদিন থেকেই তোমাকে কেন যেন আমাকে ভাল লাগদে শুরু করল। তুমি কি মনে কর অস্ট্রেলিয়া থেকে আমি এমনি এমনি চলে এসে তোমার কোম্পানিতে জয়েন করেছি? নাহ তুমি ভুল ভেবেছ। আমি সব করেছি একমাত্র তোমার জন্য। তবে তখনো জানতাম না যে তুমি আমাকে ভালবাস। তুমি যদি সত্যি আমাকে ভালবাস তাহলে খাবারগুলো নিয়ে বিল দিয়ে গাড়ীতে আস। ওয়াশরুমে যাবার সময় গাড়ীর চাবি ভুলে টেবিলে রেখে গিয়েছ। আমি গাড়ীতে অপেক্ষা করছি। সব শেষে বলব আমি তোমাকে ভীষণ ভীষণ ভালবাসি। আশা করি এবার এসে তুমি সাহস করে বলবে তোমার ভালবাসার কথা
ইতি
তোমারই হৃদি
চিঠিটা পড়েই আনন্দে আমার নাচতে ইচ্ছা হল। কি করব কি করা যায়। আচ্ছা ও তো গাড়ীতে বসে আছে।
-এক্সকিউজ মি
-জ্বি স্যার।
-আমার বেশ অনেকগুলো গোলাপ ফুল লাগবে। আশে পাশে কোথাও দোকান আছে?
-জ্বি স্যার এ আর প্লাজার সামনে আছে।
-আচ্ছা আমি বের হতে পারব না। আপনারা কাউকে একটু পাঠিয়ে আমার জন্য গুনে গুনে ১০০ গোলাপ নিয়ে আসবেন। এই টাকা রাখেন। অতি দ্রুত যাবেন।
-ঠিক আছে স্যার
আমি বসে বসে মনে ভাবতে লাগলাম ওকে কি বলব। কে জানে কতক্ষন লাগে। আসলেই আমি কি ভাগ্যবান এখন মনে হচ্ছে। আসলেই কি ভাগ্যবান। ওকে এত সহজে পাব ভাবিনি।
চলবে …