কাল্পনিক কিছু লিখতে ইচ্ছে হল।
কল্পনা,কাজটা বেশ ভালোই পারি।কিন্তু সেটা আমার একান্ত নিজস্ব।যদি আমি
তোমাদের সাথে শেয়ার করি,তার জন্যে কিন্তু আমাকে কিছু সাপোর্ট দিতে হবে।
ধরি,মানে তোমরা ধর,আমি তোমাদের বস।That means,আমার কথা তোমাদের কাছে
আদেশ।আমি যা বলব তাই তোমাদের শিরোধার্য করতে হবে,আমার কথা অক্ষরে অক্ষরে
পালন করা তোমাদের একান্ত কর্তব্য।So,আমার আপাতত আদেশ,আমার এই বিরক্তিকর
লেখাটা তোমাদের অবশ্যই পড়ে শেষ করতে হবে।
আমার স্বপ্নে ফিরে যাওয়া যাক, ধরি,মানে তোমরা ধর,আমি তোমাদের অন্যরকম একটা
বস।তোমরা আমার অধীনে চাকুরী কর।অথচ আমি তোমাদের কোন বেতন দেই না।কিন্তু
তোমরা আমার আদেশমত তোমাদের বাসায় আমাকে নিয়ে গিয়ে super super tasty খাবার
খাওয়াও।কিংবা,মাঝেমাঝে,আমাক নিয়ে ফাস্টফুডে যাও।খাওয়া দাওয়া শেষ হলে
অবশ্যই বিলটা তোমরা দাও।তবুও আমার এহেন পেটুক স্বভাবের জন্য মোটেও আমাকে
টিজ কিংবা কোন ধরনের সমালোচনা কর না !
আবার ধরা যাক,আমি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একটা অসাধারণ স্ট্রাইকার!চলতি
সিজনে আমার মোট গোল ৪২ টা।এদিকে আমার টিমমেট রোনালদো’রও গোলের সংখ্যা
৪২।ফাইনাল ম্যাচ চেলসির সাথে।এই ম্যাচে যে গোল করবে সেই বর্ষসেরা খেলোয়াড়
নির্বাচিত হবে।খেলা শুরু হয়ে গেছে।ফার্স্ট হাফও শেষ।ফলাফল
চেলসি-২,আমরা-১।আমাদের একমাত্র গোলটাও এসেছে রোনালদো’র পা থেকে।অতএব আমি
লড়ছি,একদিকে শিরোপা অর্জনের প্রাণান্ত ইচ্ছা,অন্যদিকে সেরা খেলোয়াড় হবার
খানিকটা হিংসা মিশ্রিত চেষ্টা।সেকেন্ড হাফের ৫৫ মিনিটের মাথায় একটা
গোল,তাও আবার আমার পা থেকে!গ্যালারীতে উৎফুল্ল তোমরা।আবার খেলা শুরু হয়ে
গেল রেফারীর বাঁশিতে.....................৯০ মিনিট খেলা শেষ,৩ মিনিট
অতিরিক্ত সময়।রেজাল্ট এখনও ২-২!আমি একবার হলুদ কার্ড খেয়েছি।খেলা
চলছে।প্রচন্ড উত্তেজিত সবাই।দেশে বসে আমাদের ক্লাসমেটরা সবাই খেলা
দেখছে,আর আমার অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুন্যে সবাই মুগ্ধ।দেশের মানুষেরাও
খুশি,ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে খেলছে তাদের দেশেরই একজন।তাও আবার
ফাইনালে,রোনালদো,রুনি এদের সাথে............খেলায় ফিরে যাওয়া যাক।৯২ মিনিট
শেষ,বলটা রুনির পায়ে।এগিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।আমি বামে চিৎকার করছি,আমাকে
পাস দেবার জন্য।ডানে রোনালদো।রুনি বলটা আমাকে পাস দিল,পোস্টের সামনে
রোনালদো ফাঁকা।এখন ওকে পাস দিলেই গোল।কিন্তু রিস্কটা আমি নিয়েই
নিলাম।রোনালদোকে পাস না দিয়ে আমিই এগুচ্ছি বল পায়ে।সামনে আদেবায়ো’কে
কাটালাম।আমি ডি-বক্সের কাছে পৌছেছি।সামনে আর কেউ নেই গোলকিপার ছাড়া।সমস্ত
গ্যালারির চোখ এখন আমার পায়ের দিকে,খেলার প্রায় সবকিছু এখন আমার এই পায়ের
উপর নির্ভর করছে,গায়ের সমস্ত শক্তি পায়ে এনে জড়ো করে কিক করলাম
বলে......বল এখন শূণ্যে,আমার চারপাশের সমস্ত সময় যেন থমকে গেছে,বলটাও উড়ে
যাচ্ছে.....গোলকিপারের ব্যার্থ চেষ্টাকে উপহাস করে বলটা যাচ্ছে......এবং
বল যাচ্ছে...এবং...... বল চলে গেছে পোস্টের ভেতর এবং......গোল!
অতএব ফলাফলঃআমরা-৩,চেলসি-২
আমরা এই সিজনের চ্যাম্পিয়ন!
এবং এক সিজনের সর্বোচ্চ গোল করে আমার রেকর্ড
এবং সিজনের সেরা খেলোয়াড়............আমি!
কেমন লাগল আমার কল্পনা ?
পরের কল্পনা শুরু করা যাক.........এবারে গার্লফ্রেন্ড নিয়ে।এখানেও খেলা
হচ্ছে,কিন্তু বাস্কেটবল!আমাদের বন্ধুদের একাংশই দর্শক।খেলা শুরু
হয়েছে।যথারীতি আমরাই এগিয়ে।খেলার যখন মাঝামাঝি,তখনই দেখা গেল দর্শকদের
মনযোগ আর খেলার দিকে নেই,মনোযোগ অন্যত্র।খোঁজ নিয়ে জানা গেল একটি মেয়ে
আসছে হেটে,অপূর্ব সুন্দরী।সেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণের কারণ।আমি খেলছি আর মনে
মনে হাসছি!কাছে আসার পর জানা গেল মেয়েটি আমার খোঁজেই এসেছে আর সে আমারই
ফ্রেন্ড ঊর্মি।ঊর্মি খেলা দেখছে আর আমার অসাধারণ পারফর্মেন্স দেখে সে
মুগ্ধ!খেলা একসময় শেষ হল।বিজয়ী আমরা আর সেরা খেলোয়াড়?অবশ্যই আমি!
ওহ!আমার বহুদেখা একটা কল্পনা তো বলাই হয় নি!তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে।আমি
জানালার পাশে বসে গান শুনছি আর বৃষ্টি দেখছি বাইরে।হঠাৎ ফোন বেজে উঠল,ফোন
করেছে আমার গার্লফ্রেন্ডদের মাঝের সেরা সুন্দরীজন!প্রস্তাব...চল,বন্ধু
বৃষ্টিতে ভিজে যাই।আমিও বেরিয়ে গেলাম,এমন গভীর আমন্ত্রন ঊপেক্ষা করাও
পাপ!ভিজতে ভিজতে আমরা দুজন চলেছি হাত ধরে।কদমফুল এনে দিলাম তাকে,একেবারে
তাজা!
রিকশায় বসে দু’জনে যাচ্ছি!পাশাপাশি!অবশ্য রিকশায় পাশে যদি সুন্দরী কোন
গার্লফ্রেন্ড বসে তাহলে এমনিতে অহঙ্কার মেশানো একটা অন্যরকম ভালো লাগার
কথা।আমারও লাগছে,কেননা আমার পাশের সহযাত্রী বন্ধুটিও কম সুন্দরী নয়।আর
সেটা যদি হয় বন্ধুদের দেখিয়ে দেখিয়ে ময়মনসিংহের রাস্তায় ঘোরা,তাহলে তো
অসাধারণ!সেটাই আমার এবারের কল্পনা!
পরের কল্পনাটা একটু সুপারম্যান মার্কা।ধর,আমিই সুপারম্যান!কল্পনা না আসলেই
তো আমিই সুপারম্যান! কী,বিশ্বাস হল না ?প্রমাণ চাও ?কবে ?কোথায় ?আচ্ছা,সেদিন যে
যমুনা ব্রীজ ভেঙ্গে যাচ্ছিল,সেদিন সবাইকে বাচিয়েছিল কে?আর সেই যে বিমানটা
পড়ে যাচ্ছিল,তখন তো আমিই গিয়ে প্লেনের যাত্রীদের বাঁচালাম।বিশ্বাস না হলে
জর্জ ডব্লিও বুশকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারো।পারবে ওকে জিজ্ঞেস করতে ?আমি তো
টিভির সুপারম্যানের মত বোকা না।তাই আর সবাইকে দেখিয়ে বেড়াই না।এখন বিশ্বাস
হল তো ?
এখন সবাই মিলে বলেন কেমন ছিল আমার কল্পনা গুলো....