কোনও এক বিদেশি কবিতার অনুবাদ পড়েছিলাম, যার ভাবার্থ করলে দাড়ায় এরকম,
'যখন সে আমায় বললো আমি তার ভালোবাসা,
শুরু হলো আমার সদা সতর্ক পথচলা
সামান্য বৃষ্টির ফোটা দেখেও ভয়ে চমকে উঠি
যদি বিন্দু বৃষ্টির আঘাতে ক্ষতি হয় তার ভালোবাসার... '
সকালে আধো চোখ মেলে দেখি দেয়াল ঘড়িটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছেনা। জমজ ঘোলাটে
কাঁচ আর ফিনফিনে পর্দাটা ভেদ করে যতটুকু আলো আসলে সময় টা দেখতে পাই ততটুকু
আজ নেই। জানালার বাইরে বাড়িওয়ালার ফেলে রাখা কোন একটা ধাতব বস্তুতে
ছিটেফোটা শব্দ আর কম আলো আমাকে বুঝিয়ে দিলো, বাইরে বৃষ্টি। বৃষ্টিটা যেন
স্কুলবাসের চিরচেনা হর্ণের মতো আমাকে উপহাস করে বললো, "যতোই পায়তারা করো,
এখনই তোমাকে সেজেগুজে যেতে হবে মানুষ হবার কারখানায়"।
সাইকেল টা সারারাত বৃষ্টিতে ভিজেছে। বামহাতে ছাতা আর একহাতে সাইকেল
সামলিয়ে যাত্রা করলাম আমি। অতি সাবধানে চলছি, তার মাঝে একটু আধটু ব্রেক
কষলেই বিকট কর্কষ শব্দে প্রতিবাদ জানাচ্ছে সাইকেলটা। অন্তত আজ সে আমার
গোলামি করতে রাজি না। চমকে ওঠা রাস্তার লোকজন এমনভাবে আমার দিকে তাকাতে
লাগলো যেন শব্দের জন্য আমিই দায়ী।
পুরো আকাশটারই আজ বেজায় মন খারাপ। গাছগুলো এত গাড়ীর শব্দ শুনতে চায়না,
ভেজা রাস্তাটা এত মানুষের যাওয়া আসা চায়না। ওরা একটু বৃষ্টির শব্দ গায়ে
মাখবে। কিন্তু মানুষ গুলো থামবে না। ওরা যে আরো সভ্যতা গড়বে। আর বৃষ্টিও
নতুন নতুন সভ্যতার অলিতেগলিতে ঝরে যাবে নিজের মতো করে....